পুরানা পল্টন, ঢাকা | | বঙ্গাব্দ

বিলুপ্তির পথে ডেউয়া ফল Hevwe

ফাহিম ফারুক প্রলয়ঃ

প্রকাশিত : Jun 30, 2026 ইং
ফাহিম ফারুক প্রলয়ঃ
ad728

এক সময় গ্রাম বাংলার মেঠোপথে হাঁটলেই বাতাসে ভেসে আসত ডেউয়া ফলের টক-মিষ্টি ঘ্রাণ। গাছের ডালে ঝুলে থাকত হলদেটে, এবড়োথেবড়ো অদ্ভুত আকৃতির এই দেশি ফল। অঞ্চলভেদে এটি ডেউয়া, মাদার, বনকাঁঠাল বা ঢেউয়া নামেও পরিচিত। অযত্নে বেড়ে ওঠা এই গাছ একসময় ছিল গ্রামীণ জনপদের খুব সাধারণ দৃশ্য, কিন্তু সময়ের পরিবর্তনে আজ এটি প্রায় বিলুপ্তির পথে।


বনভূমি উজাড়, জলবায়ু পরিবর্তন এবং অনিয়ন্ত্রিত নগরায়ণের কারণে এই ফলের গাছ এখন আর আগের মতো দেখা যায় না। শহরের বাজারে তো এটি রীতিমতো দুর্লভ ফল। তবে মাগুরার মহম্মদপুর উপজেলার কিছু গ্রামীণ এলাকায় এখনো টিকে আছে অল্প কিছু ডেউয়া গাছ, যেগুলো থেকেই মৌসুমে ফল সংগ্রহ করা হয়।স্থানীয় ফল ব্যবসায়ী নূর মহম্মদ জানান, তিনি বিভিন্ন গ্রাম ঘুরে গাছের ফল একসাথে কিনে নিয়ে হাটবাজারে বিক্রি করেন। তার ভাষায়, “ফলটা এখন কম পাওয়া যায়।


কিন্তু চাহিদা আছে। অনেকেই শৈশবের স্মৃতি মনে করে কিনে নেন।” আকারভেদে একটি ডেউয়া ফল ১০ থেকে ৪০ টাকায় বিক্রি হয়।ডেউয়া ফল কাঁচা অবস্থায় সবুজ হলেও পাকলে উজ্জ্বল হলুদ রঙ ধারণ করে। ভেতরে কাঁঠালের মতো ছোট কোষ থাকে, শাঁস লালচে-হলুদ রঙের। সাধারণত ফেব্রুয়ারিতে ফুল আসে, আর জুনে ফল পাকতে শুরু করে। এটি সম্পূর্ণ প্রাকৃতিকভাবে জন্মায়, কোনো রাসায়নিক ছাড়াই।

স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, ডেউয়া ফলে ভিটামিন বি, সি, ক্যালসিয়াম, পটাশিয়াম, আয়রন ও জিঙ্ক রয়েছে। একটি মাঝারি ফল থেকে প্রায় ৭৩ কিলোক্যালরি শক্তি পাওয়া যায়, যা শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সহায়তা করে।সব মিলিয়ে, একসময় সাধারণ এই দেশি ফল এখন হারিয়ে যাওয়ার পথে থাকলেও গ্রামীণ মানুষের স্মৃতি ও স্বাদের টানে এখনো টিকে আছে ডেউয়া।



নিউজটি আপডেট করেছেন : ফাহিম ফারুক প্রলয়ঃ

কমেন্ট বক্স
প্রতিবেদকের তথ্য

ফাহিম ফারুক প্রলয়ঃ

© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ দৈনিক আমার প্রেরণা ডট কম
সকল কারিগরী সহযোগিতায় SoftioLab