পুরানা পল্টন, ঢাকা | | বঙ্গাব্দ

একটি প্রোবায়োটিক দৈনিক কমাবে হতাশা এবং উদ্বেগ!

author
Reporter

প্রকাশিত : Jun 24, 2026 ইং
ad728

শুধু হজমে সহায়তাই নয়, দৈনিক একটি প্রোবায়োটিক গ্রহণ মানসিক স্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত উপকারী। সম্প্রতি এক গবেষণায় এমন তথ্যই উঠে এসেছে। প্রোবায়োটিক হলো এক ধরণের উপকারী ব্যকটেরিয়া সমৃদ্ধ খাবার, যাকে বন্ধু ব্যাকটেরিয়া বলেও সম্বোধন করেন চিকিৎসকরা।আমেরিকান জেরিয়াট্রিক্স সোসাইটির জার্নালে প্রকাশিত সমীক্ষায় দেখানোর চেষ্টা করা হয়েছে যে,প্রোবায়োটিকগুলো এন্টিডিপ্রেসেন্ট (বিষন্নতারোধী) চিকিৎসার পরিপূরক হতে পারে কি-না।


গবেষকরা দেখেছেন যে, প্রাপ্তবয়স্কদের মধ্যে যারা তাদের খাদ্য তালিকায় একটি প্রোবায়োটিক (যেমন দই, পনির, ঘোল কিংবা বাটারমিল্ক) সম্পূরক হিসেবে যোগ করেছেন তারা প্লাসিবো (বিষন্নতায় ভুগতে থাকা রোগীদের জন্য এক ধরণের সান্ত্বনামূলক ওষুধ) গ্রহণকারীদের তুলনায় হতাশা এবং উদ্বেগ উভয় লক্ষণেই কিছুটা বেশি উন্নতি দেখেছেন।সমীক্ষাটি চালানো হয় ভারতের ৬০ বছর বা তার বেশি বয়সী ৫৮ জন প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তিকে নিয়ে। যাদের সবার মধ্যে বিষন্নতা ও উদ্বেগ ছিল। গবেষণায় অংশ নেওয়ার সময় সব অংশগ্রহণকারী তাদের স্বাভাবিক এন্টিডিপ্রেসেন্ট ওষুধও চালিয়ে যান।

ওই রোগীদের দুটি গ্রুপে ভাগ করে সমীক্ষা চালানো হয়। তাদের একদল দৈনিক প্রোবায়োটিক সম্পূরক হিসেবে গ্রহণ করেছিলেন, অন্যদলটিকে প্লাসিবো দেওয়া হয়েছিল। এই সমীক্ষা চলে ১২ সপ্তাহ ধরে। দীর্ঘমেয়াদী প্রভাবগুলো পর্যবেক্ষণের জন্য অতিরিক্ত ১৩ সপ্তাহ পর্যবেক্ষণ করা হয়েছিল।অংশগ্রহণকারী উভয় দলই সময়ের সাথে স্পষ্ট উন্নতি দেখেছেন। তবে যারা প্রোবায়োটিক গ্রহণ করেছিলেন তাদের বিষন্নতা এবং উদ্বেগ অনেকাংশে কমেছে। তারা পরামর্শ দিয়েছেন যে, সম্পূরক খাবার হিসেবে প্রোবায়োটিক থেকে মানসিক স্বাস্থ্যের উন্নয়নের পাশাপাশি অন্যান্য সুবিধাও পাওয়া যায়।


বিশেষজ্ঞরা গবেষণায় অংশগ্রহণকারী উভয় দলকে প্রশ্ন করে ফলাফল জানার চেয়ে প্রযুক্তিগত সহায়তাই বেশি নিয়েছেন। তারা বিষন্নতা এবং উদ্বেগের উপসর্গ পরিমাপ করার জন্য প্রতিষ্ঠিত রেটিং স্কেল ব্যবহার করেন। পাশাপাশি এ সংক্রান্ত জৈবিক অন্যান্য বিষয়গুলোও পরীক্ষা করেন।এর মধ্যে রয়েছে মস্তিষ্ক থেকে প্রাপ্ত নিউরোট্রফিক ফ্যাক্টর, বা বিডিএনএফ; স্নায়ু কোষের বৃদ্ধি, রক্ষণাবেক্ষণ এবং বেঁচে থাকার সাথে জড়িত একটি প্রোটিন। তারা ফেকাল মাইক্রোবায়োটা প্রোফাইলিংয়ের মাধ্যমে অংশগ্রহণকারীদের অন্ত্রের ব্যাকটেরিয়াও বিশ্লেষণ করেছেন।


প্রাপ্ত ফলাফলে গবেষকরা নিশ্চিত হয়েছেন যে, প্রোবায়োটিক থেরাপি অনেকখানি অবদান রাখতে সক্ষম। তবে গবেষকরা স্পষ্ট প্রমাণ খুঁজে পাননি যে, প্রোবায়োটিকগুলো প্লাসিবোর তুলনায় সামগ্রিক জীবনের মানের অতিরিক্ত উন্নতি ঘটায়।তবে ব্লুম বিহেভিওরাল হেলথের চিফ ক্লিনিকাল অফিসার ব্রায়ান লুটজ, নিউজউইককে বলেছেন যে, এই নতুন গবেষণাটি গুরুত্বপূর্ণ হলেও, প্রোবায়োটিকের সম্ভাব্য ব্যবহার এবং কীভাবে সেগুলো ক্লিনিক্যালি ব্যবহার করা যেতে পারে সে সম্পর্কে গবেষণায় একটি ফাঁক থেকে গেছে।


"উদ্বেগ এবং বিষণ্ণতার রোগীরা কম খরচে এবং আত্মসন্মানবোধ বজায় রেখে চিকিৎসা নিতে আগ্রহী; তাই, এসব রোগীদের জন্য প্রোবায়োটিকগুলো একটি সম্ভাব্য বিকল্প। এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ যে চিকিৎসকরা এই গবেষণাটি সাবধানে করেছেন। তবে আশঙ্কার বিষয় হচ্ছে, আশাবাদী রোগীরা ইতিবাচক গবেষণাগুলো দেখে কেবল প্রোবায়োটিক পরীক্ষা করার উদ্দেশ্যে তাদের বর্তমান তথ্য-প্রমাণ ভিত্তিক (প্রমাণিত) চিকিৎসা বিলম্বিত করতে পারেন কিংবা সেটিকে কম অগ্রাধিকার দিতে পারেন," —যোগ করেন তিনি।


"লুৎজ মনে করেন, এই গবেষণার আসল বার্তা এটাই যে—সহায়ক চিকিৎসা হলো মূল চিকিৎসার পাশাপাশি বাড়তি একটি সুবিধা। এটি কখনোই মূল চিকিৎসার বিকল্প হতে পারে না।"তিনি বলেন, "প্রোবায়োটিকে মানসিক স্বাস্থ্যের উন্নতি ঘটে—এই ইতিবাচক ধারণাটি যদি ভবিষ্যতেও সত্যি প্রমাণিত হয়, তবে এটিকে মূল চিকিৎসার পাশাপাশি একটি সহায়ক উপাদান হিসেবে ব্যবহার করাটাই সবচেয়ে বুদ্ধিমানের কাজ হবে। কিন্তু এটি কখনোই নিয়মিত থেরাপি, ওষুধ বা অন্যান্য প্রমাণিত চিকিৎসার বিকল্প হতে পারে না।"


"ফলাফলগুলো উৎসাহজনক হলেও, তার মানে এই নয় যে প্রোবায়োটিক খেলেই মানসিক স্বাস্থ্য পুরোপুরি বদলে যাবে—এমন কোনো গ্যারান্টি বা ঢালাও দাবি এই গবেষণায় করা হয়নি।""যেহেতু এই পরীক্ষাটি খুব ছোট আকারে একটি প্রাথমিক গবেষণা হিসেবে করা হয়েছিল, তাই এর ফলাফল নিশ্চিত করার জন্য আরও বড় ধরনের গবেষণার প্রয়োজন। এর মাধ্যমে জানা যাবে ঠিক কোন ধরনের রোগীরা এতে সবচেয়ে বেশি উপকৃত হবেন এবং সাধারণ মানুষের বড় কোনো দলের ওপর পরীক্ষা করলেও একই ফলাফল পাওয়া যাবে কিনা।"


"তারপরেও, গবেষকদের মতে শুরুর দিকের এই ফলাফলগুলো বেশ ইতিবাচক এবং এটি নিয়ে সামনে আরও পড়াশোনা বা গবেষণা করার যথেষ্ট কারণ রয়েছে।"সহ-গবেষক ড. সৈবাল দাস (ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট ফর রিসার্চ ইন ব্যাকটেরিয়াল ইনফেকশনস, কলকাতা) বলেন, "আমাদের এই গবেষণার ফলাফলগুলো সম্পূর্ণ নতুন। শুরুর এই ইতিবাচক সাফল্যের ওপর ভিত্তি করে আমরা এখন আরও বড় আকারে একটি ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল বা পরীক্ষা চালানোর প্রস্তুতি নিচ্ছি।"


কলকাতার টাটা মেডিকেল সেন্টারের নিউরোসায়েন্টিস্ট এবং সহ-গবেষক ড. অভিনব ঘোষ জানান—এই গবেষণার মূল উদ্দেশ্য হলো এর ফলাফলকে রোগীদের বাস্তব ও কার্যকরী চিকিৎসার কাজে লাগানো।ড. ঘোষ বলেন, "আমার মূল উদ্দেশ্য হলো সাধারণ মানুষের নাগালের মধ্যে থাকে এমন স্বাস্থ্যসেবা তৈরি করা এবং তা বৃহত্তর জনগোষ্ঠীর কাছে পৌঁছে দেওয়া, যাতে জনস্বাস্থ্যে এর একটি বড় ও ইতিবাচক প্রভাব পড়ে।"



নিউজটি আপডেট করেছেন : Reporter

কমেন্ট বক্স
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ দৈনিক আমার প্রেরণা ডট কম
সকল কারিগরী সহযোগিতায় SoftioLab