দুর্নীতির মামলার তদন্ত চলমান থাকায় ৩৮তম বিসিএসে প্রশাসন ও পররাষ্ট্র ক্যাডারে সুপারিশপ্রাপ্ত দুই ব্যক্তির দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছেন আদালত। জাল সনদ ব্যবহার করে চাকরি নেওয়া এবং সরকারি অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে তাদের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলার তদন্ত করছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।
জানা যায়, মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) দুদকের পৃথক দুটি আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকার মহানগর সিনিয়র স্পেশাল জজ আদালতের বিচারক শাহজাহান কবির এ আদেশ দেন। দুদকের জনসংযোগ কর্মকর্তা আকতারুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞার আওতায় থাকা দুজন হলেন সঞ্জয় দাস ও আবু সালেহ মো. মুসা।
তাদের মধ্যে সঞ্জয় দাস ৩৮তম বিসিএসে প্রশাসন ক্যাডারে এবং আবু সালেহ মো. মুসা পররাষ্ট্র ক্যাডারে সুপারিশপ্রাপ্ত হয়েছিলেন।দুদক সূত্রে জানা যায়, মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সংস্থাটির সহকারী পরিচালক সাজ্জাদ হোসেন আদালতে পৃথক দুটি আবেদন করেন।আবেদনে বলা হয়, সরকারি চাকরি পাওয়ার উদ্দেশ্যে আর্থিকভাবে লাভবান হওয়ার অসৎ অভিপ্রায়ে ক্ষমতার অপব্যবহার,
প্রতারণা ও জালিয়াতির মাধ্যমে জাল সনদ তৈরি করেন অভিযুক্তরা।অভিযোগ অনুযায়ী, ওই সনদগুলো প্রকৃত ও বৈধ দলিল হিসেবে ব্যবহার করে নিজেদের যোগ্য প্রার্থী হিসেবে উপস্থাপন করেন তারা। এর মাধ্যমে বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশনকে (পিএসসি) বিভ্রান্ত করে ভুল সিদ্ধান্ত নিতে প্ররোচিত করা হয়।
এর ফলেই তারা বিসিএসের সংশ্লিষ্ট ক্যাডারে সুপারিশ প্রাপ্ত হন বলে আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।আবেদনে আরও বলা হয়, পরবর্তী সময়ে চাকরিতে যোগ দিয়ে বেতন-ভাতাসহ সরকারি অর্থ উত্তোলনের মাধ্যমে আত্মসাতের অভিযোগ ওঠায় তাদের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে। বর্তমানে মামলাগুলোর তদন্ত চলছে।দুদকের আবেদনে উল্লেখ করা হয়, বিশ্বস্ত সূত্রে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী,
অভিযুক্তরা দেশ ছেড়ে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করতে পারেন। তদন্তের স্বার্থে তাদের বিদেশযাত্রা ঠেকানো প্রয়োজন। এ কারণে তাদের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা জারির আবেদন করা হয়।আদালত দুদকের পৃথক আবেদন বিবেচনায় নিয়ে সঞ্জয় দাস ও আবু সালেহ মো. মুসার দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা আরোপের আদেশ দেন।