পুরানা পল্টন, ঢাকা | | বঙ্গাব্দ
সংসদে ‘ট্রান্সফার অব প্রপার্টি (অ্যামেন্ডমেন্ট) বিল, ২০২৬’ পাশ

‘আত্মা ভেঙে যায়, যখন দেখি সন্তানরা...রুমিন ফারহানা

সম্পত্তি জোর করে লিখিয়ে নিয়ে বৃদ্ধ পিতা-মাতাকে বৃদ্ধাশ্রমে পাঠানোর মতো অমানবিক ঘটনা ঠেকাতে সংসদে আইন পাস

রুকুনুজ্জামান খান টিটু/মোঃ দেলোয়ার হোসেনঃ

প্রকাশিত : Sep 6, 2026 ইং
রুকুনুজ্জামান খান টিটু/মোঃ দেলোয়ার হোসেনঃ
ad728

বৃদ্ধ পিতা-মাতার সম্পত্তি জোর করে লিখিয়ে নিয়ে তাদের বৃদ্ধাশ্রমে পাঠানোর মতো অমানবিক ঘটনা ঠেকাতে সংসদে ‘ট্রান্সফার অব প্রপার্টি (অ্যামেন্ডমেন্ট) বিল, ২০২৬’ পাশ করা হয়েছে। তবে এই বিলটিকে মুসলিম শরিয়া আইনের ‘হেবা’ বা দান বিধির সাথে সরাসরি সাংঘর্ষিক বলে দাবি করেছে বিরোধী দলীয় নেতারা। 


বিলের ওপর আলোচনায় অংশ নিয়ে স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা বলেন, কুরআন শরীফে মহান আল্লাহ তাআ’লা বলেছেন-  ‘তোমরা আমার ইবাদত করো এবং পিতা-মাতার সাথে সদ্ব্যবহার করো। তাদের একজন অথবা উভয়ে তোমার জীবদ্দশায় বার্ধক্যে উপনীত হলে তাদের সাথে এমন কোনো আচরণ করো না; যাতে তারা ‘উহ’ শব্দটিও ব্যবহার করে। 

তাদেরকে ধমক দিও না। বরং তাদের সাথে সম্মানজনকভাবে কথা বলো।’রুমিন ফারহানা বলেন, আমাদের আত্মা ভেঙে যায়, যখন দেখি সন্তানরা বড় বড় দালানে গিয়ে উঠে। বাবা-মার সম্পত্তির দখল নেয়। অনেক সময় বাবা-মাকে চাপ প্রয়োগ করে সম্পত্তির দখল নেয়। পরবর্তীতে বাবা-মার জায়গা হয় ঐ বহুতল ভবনের একিবারে কোনার একটা অংশে। 


অনেক সময় সেই জায়গাটিও হয় না। তাদেরকে বৃদ্ধাশ্রমে গিয়ে আশ্রয় নিতে হয়। এই আইনটি সংসদে উপস্থাপন করার জন্য আইনমন্ত্রীকে ধন্যবাদ। তারপরও আমার কয়েকটি অবজারভেশন আছে, আমার বিশ্বাস আইনমন্ত্রী বিষয়টি লক্ষ্য করবেন-


১. ভরণ-পোষণের অবহেলায় দান বাতিলের এক তরফা অধিকার এই আইনে দেওয়া হোক। 

২. পিতা-মাতার ভরণ-পোষণ আইন-২০১৩ এর সাথে সঙ্গতি রেখে বিধান যোগ করা তাদের সন্তান পিতা-মাতাকে অবহেলা কিংবা নির্যাতন করলে দাতা এককভাবে রেজিষ্ট্রি দলিল বাতিলে পারিবারিক আদালতে যেন আবেদন করতে পারেন সেই সুযোগ রাখা। 


৩. তৃতীয় পক্ষের কাছে সন্তান জমি বন্ধক দেবে আর বাবা-মাকে সেই মর্গেজের দায় টানতেহবে, আর বাবা-মাকে বাড়ি থেকে বের করে দেবে; সেটা যেন না হয়।

৪. দাতার জীবিত অবস্থায় তার লিখিত সম্পত্তি ছাড়া উক্ত সম্পত্তি কোনো ব্যাংকে রেখে ঋণগ্রহণ বা তৃতীয় পক্ষের কাছে হস্তান্তর নিষিদ্ধ করা।


৫. সংক্ষিপ্ত ও দ্রুত বিচারের পদ্ধতি রাখা। 

৫. জেলা জজের দীর্ঘসূত্রিতা পরিহার করে পারিবারিক আদালতের মাধ্যমে ৬০-৯০ কার্যদিবসের মধ্যে জরুরি চিকিৎসা বা আর্থিক প্রয়োজনের অনুমতির বিধান রাখা। 



নিউজটি আপডেট করেছেন : রুকুনুজ্জামান খান টিটু/মোঃ দেলোয়ার হোসেনঃ

কমেন্ট বক্স
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ দৈনিক আমার প্রেরণা ডট কম
সকল কারিগরী সহযোগিতায় SoftioLab