পুরানা পল্টন, ঢাকা | | বঙ্গাব্দ

চিতলমারী কুমড়া বড়িতে ভাগ্য বদলাচ্ছেন নারীরা

রুকুনুজ্জামান খান টিটু?মোঃ দেলোয়ার হোসেনঃ

প্রকাশিত : Sep 6, 2026 ইং
রুকুনুজ্জামান খান টিটু?মোঃ দেলোয়ার হোসেনঃ
ad728

ভাতের পাতে মাছ কিংবা মাংসের ঝোলে কুমড়া বড়ি বাঙালির অতি প্রিয়। বিশেষ করে শীতের আমেজে গ্রামবাংলার ঘরে ঘরে এই বড়ি তৈরির ধুম পড়ে যায়। আবিলকাল থেকেই গৃহস্থালির কাজের অংশ হিসেবে নারীরা বড়ি তৈরি করে আসলেও বাগেরহাটের চিতলমারীতে এখন চিত্রটা ভিন্ন। সেখানে কেবল নিজেদের চাহিদা মেটানো নয়, বাণিজ্যিকভাবে কুমড়া বড়ি তৈরি করে আয়ের নতুন পথ খুঁজে নিয়েছেন শত শত নারী।


চিতলমারী উপজেলার বিভিন্ন গ্রাম ঘুরে দেখা যায়, শীতের আগমনী বার্তার সঙ্গে সঙ্গে প্রতিটি বাড়ির আঙিনায় এখন বড়ি তৈরির উৎসব চলছে। মূলত চাল কুমড়া, মুলা, মানকচু ও শসার মণ্ডের সঙ্গে মাষকলাইয়ের ডাল মিশিয়ে এই সুস্বাদু বড়ি তৈরি করা হয়। ভোর থেকে ডাল বাটা আর কুমড়া কোরানোর কাজে ব্যস্ত হয়ে পড়েন গৃহবধূরা। এরপর নিপুণ হাতে চাটাই কিংবা পাতলা কাপড়ের ওপর সারি সারি বড়ি বসিয়ে রোদে শুকানো হয়।


উপজেলার দুর্গাপুর গ্রামের সবজি চাষি সুব্রত মণ্ডল দৈনিক আমার প্রেরণাকে জানান, চিতলমারীতে প্রচুর পরিমাণে চাল কুমড়া চাষ হয়। অনেক সময় জমি থেকে সব কুমড়া বিক্রি হয় না। সেই অবিক্রীত কুমড়া নষ্ট না করে তা দিয়ে বড়ি তৈরি করা হচ্ছে। এতে একদিকে যেমন অপচয় কমছে, অন্যদিকে বাড়তি আয়ের সুযোগ তৈরি হয়েছে।


সম্প্রতি ব্রহ্মগাতি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে দেখা মেলে স্মৃতি ভট্টাচার্য নামে এক গৃহবধূর। তিনি রোদে বড়ি শুকাতে ব্যস্ত ছিলেন। স্মৃতি জানালেন, আগে শুধু নিজেদের খাওয়ার জন্য বানালেও এখন তিনি ফরমাশ অনুযায়ী বিক্রিও করছেন। স্থানীয় বাজারে প্রতি কেজি কুমড়া বড়ি ২৫০ থেকে ৩০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। চাহিদাও বেশ ভালো, অনেকেই অগ্রিম টাকা দিয়ে রাখছেন।


স্থানীয় গৃহবধূ চম্পা হীরা ও মীরা রানী  দৈনিক আমার প্রেরণাকে বলেন, ‘চাল কুমড়া আর মাষকলাইয়ের ডালের বড়ির স্বাদই আলাদা। মাছের ঝোল বা নিরামিষ তরকারিতে এই বড়ি দিলে স্বাদ বহুগুণ বেড়ে যায়। শহরের মানুষের কাছেও এর ব্যাপক চাহিদা রয়েছে।’চিতলমারীর এই গ্রামীণ নারীদের হাতে তৈরি বড়ি এখন স্থানীয় অর্থনীতির এক নতুন শক্তি। 


ঘরে বসে নারীদের এই স্বাবলম্বী হওয়ার চেষ্টা এলাকায় ইতিবাচক সাড়া ফেলেছে। সরকারের পক্ষ থেকে প্রশিক্ষণ ও ঋণের ব্যবস্থা করলে এই ক্ষুদ্র শিল্পটি আরও বড় আকার নিতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।



নিউজটি আপডেট করেছেন : রুকুনুজ্জামান খান টিটু?মোঃ দেলোয়ার হোসেনঃ

কমেন্ট বক্স
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ দৈনিক আমার প্রেরণা ডট কম
সকল কারিগরী সহযোগিতায় SoftioLab