ফুটবল মাঠে অসংখ্য রেকর্ড গড়ার পাশাপাশি বিলাসবহুল জীবনযাপনেও আলোচনায় থাকেন আর্জেন্টাইন তারকা লিওনেল মেসি। যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডার মায়ামিতে আটলান্টিক মহাসাগরের একটি ব্যক্তিগত দ্বীপে গড়ে তুলেছেন তার স্বপ্নের অবকাশযাপন কেন্দ্র, যার আনুমানিক মূল্য প্রায় ৬০০ কোটি টাকা। আধুনিক স্থাপত্য, ব্যক্তিগত গোপনীয়তা এবং বিলাসিতার সমন্বয়ে তৈরি এই বাড়ি ইতোমধ্যেই বিশ্বের অন্যতম আলোচিত তারকাবাড়ির তালিকায় জায়গা করে নিয়েছে।
প্রায় ৫০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার ব্যয়ে নির্মিত এই ম্যানশনটি ইংরেজি ‘M’ অক্ষরের আদলে নকশা করা হয়েছে, যা মেসির নামের প্রথম অক্ষরের প্রতীক। তিনতলা এই ভবনটি এমনভাবে নির্মাণ করা হয়েছে, যাতে প্রায় প্রতিটি কক্ষ থেকেই দেখা যায় সমুদ্রের অপরূপ দৃশ্য। চারদিকে নীল জলরাশি ঘেরা পরিবেশ বাড়িটিকে আরও আকর্ষণীয় করে তুলেছে।
বাড়িটিতে রয়েছে ২০টি গাড়ি রাখার গ্যারেজ, তিনটি হেলিপ্যাড, আধুনিক হোম থিয়েটার, ব্যক্তিগত জিম, ভিডিও গেম রুম, বিলিয়ার্ড জোন, একাধিক সুইমিংপুল, জাকুজ্জি এবং অতিথিদের জন্য আলাদা থাকার ব্যবস্থা। পরিবারের সদস্যদের আরাম ও ব্যক্তিগত সময় কাটানোর বিষয়টি মাথায় রেখেই প্রতিটি অংশ সাজানো হয়েছে।
ফুটবল মেসির জীবনের সবচেয়ে বড় পরিচয়। তাই তার বাড়িতেও সেই ছাপ স্পষ্ট। ম্যানশনের পেছনে রয়েছে একটি ব্যক্তিগত ফুটবল মাঠ, যেখানে স্ত্রী আন্তোনেলা রোকুজ্জো ও তিন ছেলে থিয়াগো, মাতেও এবং চিরোর সঙ্গে সময় কাটান এই বিশ্বকাপজয়ী অধিনায়ক। এছাড়া বাড়ির বিভিন্ন স্থানে ফুটবল অনুপ্রাণিত নকশাও ব্যবহার করা হয়েছে।
এই ব্যক্তিগত দ্বীপে মেসির বাড়ি ছাড়া অন্য কোনো স্থাপনা নেই। ফলে পরিবারের গোপনীয়তা বজায় থাকে পুরোপুরি। বাড়ির সামনে সব সময় প্রস্তুত থাকে ব্যক্তিগত ইয়ট, স্পিডবোট ও আধুনিক নৌযান। ইচ্ছা হলেই পরিবার নিয়ে সমুদ্রভ্রমণে বেরিয়ে পড়তে পারেন তিনি।মায়ামির এই ম্যানশন ছাড়াও যুক্তরাষ্ট্র, স্পেন ও আর্জেন্টিনায় মেসির আরও একাধিক বিলাসবহুল বাড়ি রয়েছে।
তবে ব্যক্তিগত দ্বীপে নির্মিত এই বাড়িটিকেই তার সবচেয়ে ব্যতিক্রমী এবং বিলাসবহুল সম্পত্তি হিসেবে বিবেচনা করা হয়। আধুনিক প্রযুক্তি, নান্দনিক নকশা এবং প্রকৃতির অপূর্ব সৌন্দর্যের সমন্বয়ে গড়ে ওঠা এই ম্যানশন যেন ফুটবল তারকার স্বপ্নের এক রাজপ্রাসাদ।
