পুরানা পল্টন, ঢাকা | | বঙ্গাব্দ

গ্যাসের দাম বাড়ানোর তোড়জোড় চলছে!

author
Reporter

প্রকাশিত : Jul 17, 2026 ইং
ad728

গ্যাসের দাম বাড়িয়ে ভর্তুকি থেকে বের হয়ে আসতে চায় পেট্রোবাংলা। যানবাহন ও বিদ্যুৎ উৎপাদনে ব্যবহৃত গ্যাসের দাম এবং বিতরণ কোম্পানির মার্জিন বাড়ানোর তোড়জোড় চলছে বলে জানা গেছে।বিষয়টি সম্পর্কে অবগত জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ এবং পেট্রোবাংলার একাধিক সূত্র বার্তা২৪.কমকে নিশ্চিত করেছেন।

সর্বশেষ ২০২৫ সালের এপ্রিলে নতুন শিল্পে ৩০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৪০ টাকা একই বছরের নভেম্বর সার উৎপাদনে প্রতি ঘনমিটার ১৬ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২৯.২৫ টাকা করা হয়েছিল।পেট্রোবাংলা একজন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বার্তা২৪.কমকে বলেছেন, আমরা বিভিন্ন বিতরণ কোম্পানির থেকে তথ্য চেয়েছি। 

ইতোমধ্যে কিছু কোম্পানির তথ্য চলে এসেছে। সর্বিক পরিস্থিতি যাচাই-বাছাই করে মন্ত্রণালয়ের মতামতের জন্য প্রেরণ করা হবে। মন্ত্রণালয় থেকে অনুমোদন পাওয়া গেলে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনে (বিইআরসি) প্রস্তাব প্রেরণ করা হবে।

এক প্রশ্নের জবাবে ওই কর্মকর্তা বলেন, আমরা মুনাফা করতে চাই না, লোকসানেও থাকতে চাই না। আমরা চাই ভর্তুকি থেকে বের হয়ে আসতে। প্রাথমিকভাবে যানবাহন ও বিদ্যুৎ উৎপাদনে ব্যবহৃত গ্যাসের দাম বাড়ানোর বিষয়টি সক্রিয় বিবেচনায় রয়েছে। বাকিটা মন্ত্রণালয়ের নীতি সিদ্ধান্তের উপর নির্ভর করছে।

পেট্রোবাংলা সূত্র জানিয়েছে, ইরান যুদ্ধের কারণে এলএনজি আমদানি ব্যয় অস্বাভাবিকহারে বেড়েছে। ২০২৫-২৬ অর্থবছরের হিসাব অনুযায়ী বিভিন্ন উৎস থেকে পাওয়া গ্যাসের গড় ক্রয়মূল্য দাঁড়িয়েছে ৩১.৬৫ টাকা (প্রতি ঘনমিটার), আর বর্তমানে গড় বিক্রয়মূল্য রয়েছে ২৩.৬৩ টাকা, এতে করে প্রতি ঘনমিটারে ঘাটতি থাকছে ৮.০২ টাকার মতো।

তবে ইরান যুদ্ধ ও হরমুজ প্রণালী সংকট সব হিসাব পাল্টে দিয়েছে। চলতি বছরের প্রথম ৩ মাস (জানুয়ারি-মার্চ) যেখানে গড় ক্রয়মূল্য পড়েছে ২৭.৬৪ টাকা, সেখানে ইরান যুদ্ধ শুরুর পর (এপ্রিল-জুন ২০২৬) গড় ক্রয়মূল্য উঠেছে ৪৫.৭৯ টাকায়। ওই ৩ মাস গড় বিক্রয়মূল্য ২৩.৬৩ টাকায় বিক্রি করায় প্রতি ঘনমিটারে ঘাটতি হয়েছে ২১.৮২ টাকা।

এতে করে ২০২৫-২৬ অর্থবছরে পেট্রোবাংলার ঘাটতি হয়েছে প্রায় ১৬ হাজার ৫০০ কোটি টাকা। বিপরীতে সরকার ভর্তুকি দিয়েছে ১৪ হাজার ৬০০ কোটি টাকা। যা আগের বছরগুলো ছিল এক-তৃতীয়াংশ।বিদেশ থেকে আমদানির পাশাপাশি বহুজাতিক কোম্পানি ও রাষ্ট্রীয় ৩টি কোম্পানির কাছ থেকে গ্যাস কিনে থাকে পেট্রোবাংলা।

 সিলেট গ্যাস ফিল্ড কোম্পানির ও বাংলাদেশ গ্যাস ফিল্ড কোম্পানিকে প্রতি হাজার ঘনফুটের দাম দেওয়া হয় ২৮ টাকার মতো, বাপেক্সকে দেওয়া হয় ১১২ টাকার মতো। শেভরন বাংলাদেশকে প্রতি হাজার ঘনফুট গ্যাসের দাম দেওয়া হয় ২.৭৬ ডলার (প্রায় ৩৩৬ টাকা) আর টাল্লোর সাথে চুক্তি রয়েছে ২.৩১ ডলার (প্রায় ২৮২ টাকা)। 

অন্যদিকে ২০২৪-২৫ অর্থবছরের প্রথম ৭ মাসে কাতার থেকে আমদানি করা এলএনজির দাম পড়েছে ১০.৬৬ ডলার ও ওমান থেকে আনা এলএনজির দাম পড়েছে ১০.০৯ ডলার।এক সময় দেশীয় গ্যাস ফিল্ডগুলো থেকে ২৮০০ মিলিয়ন পর্যন্ত গ্যাস উত্তোলন করা হয়েছে। মজুদ কমে আসায় ১৬৫০ মিলিয়নে নেমে এসেছে দেশীয় উৎপাদন। 

বিদায়ী বছরে ৩০ শতাংশ গ্যাস আমদানি করা হয়েছে, দেশীয় উৎস থেকে যোগান এসেছে প্রায় ৭০ শতাংশ। ২০৩০ সালে দেশীয় গ্যাসের সরবরাহ ৩০ শতাংশে নেমে আসবে, আর আমদানির অনুপাত বাড়ে ৭০ শতাংশ হবে বলে মনে করছে পেট্রোবাংলা।

দেশীয় উৎস থেকে পাওয়া গ্যাসের গড় মূল্য দেখা যাচ্ছে ৬.০৭ টাকা, আর ৩০ শতাংশ চড়াদামে আমদানির পর দর দাঁড়াচ্ছে ৩১.৬৫ টাকা থেকে ৪৫.৭৯ টাকা। ৩০ শতাংশ আমদানি করতে গিয়েই দাম সামাল দেওয়া কঠিন হচ্ছে অদূর ভবিষ্যতে ৭০ শতাংশ আমদানির পর কি দাঁড়াবে সহজেই অনুমেয়।

বাংলাদেশের গ্যাস সম্পদ নিয়ে নানা রাজনীতি বিদ্যমান। এক সময় বলা হলো গ্যাসের উপর দেশ ভাসছে, আবার আরেক সময় বলা হলো গ্যাস নেই আমদানি করতে হবে। এই রাজনৈতিক খেলার কারণে অনুসন্ধান কার্যক্রম এখনও তিমিরেই বলা চলে। ১৯৯৫ সালের জ্বালানি নীতিমালায় বছরে ৪টি অনুসন্ধান কূপ খনন করার কথা বলা হয়।

 কিন্তু কোন সরকারেই সেই লক্ষ্যমাত্রার ধারের কাছেও ঘেষতে পারেনি। যে কারণে গ্যাস খাতের অবস্থা অনেকটা বেসামাল বলা যায়। সংকটের কারণে প্রায় সবধরনের গ্যাস সংযোগ বন্ধ বলা যায়। এতে করে থমকে রয়েছে শিল্পায়ন। আবার বিদ্যমান শিল্প ও বিদ্যুৎ কেন্দ্র ধুকে ধুকে চলছে।

পেট্রোবাংলা যখন গ্যাসের দাম বাড়ানোর তোড়জোড় শুরু করেছে, তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন এন্ড ডিস্ট্রিবিউশন পিএলসি, পশ্চিমাঞ্চল গ্যাস কোম্পানি লিমিটেড, জালালাবাদ গ্যাস ট্রান্সমিশন এন্ড ডিস্ট্রিবিউশন সিস্টেম লিমিটেড, বাখরাবাদ গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি,

কর্ণফুলী গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেড ও সুন্দরবন গ্যাস কোম্পানি লিমিটেড তাদের বিতরণ মার্জিন বাড়ানোর প্রস্তাব গুছিয়ে এনেছে বলে জানা গেছে।এরই মধ্যে কর্ণফুলীসহ একাধিক কোম্পানি তাদের প্রস্তাব পেট্রোবাংলায় প্রেরণ করেছে। কোম্পানিগুলো দাবি করেছে, বিতরণ মাশুল থেকে তাদের পরিচালন ব্যয় মিটছে না। কিছু কোম্পানি অপরিচালন আয় থেকে ব্রেক ইভেনে রয়েছে।

তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন এন্ড ডিস্ট্রিবিউশন পিএলসির ব্যবস্থাপনা পরিচালক শাহনেওয়াজ পারভেজ বার্তা২৪.কমকে বলেছেন, প্রতি ঘনমিটারে আমরা বিতরণ চার্জ পাই ২১ পয়সা। এই আয় দিয়ে পরিচালন ব্যয় মেটে না, যে কারণে বিতরণ চার্জ বাড়ানো প্রয়োজন। আমরা বিষয়গুলো যাচাই-বাছাই করছি।

কর্ণফুলী গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানির এক কর্মকর্তা জানিয়েছে, প্রতি ঘনমিটারে ৩৭ পয়সা হার বিতরণ চার্জ থেকে আয় হয় ৬২ কোটি টাকার মতো। আর বছরে পরিচালন খরচ রয়েছে ২০০ কোটি টাকার উপরে। পে-স্কেল চালু হওয়ায় এই খরচ আরও বাড়ে যাবে। ক্রমাগত লোকসান দিতে থাকলে এক সময় আদমজী জুট মিলের মতো দেউলিয়া হয়ে যাবে বিতরণ কোম্পানিগুলো।





নিউজটি আপডেট করেছেন : Reporter

কমেন্ট বক্স
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ দৈনিক আমার প্রেরণা ডট কম
সকল কারিগরী সহযোগিতায় SoftioLab