পুরানা পল্টন, ঢাকা | | বঙ্গাব্দ

বিপর্যস্ত দেশের যোগাযোগ-অর্থনীতি

author
Reporter

প্রকাশিত : Jul 10, 2026 ইং
ad728

দেশের যোগাযোগ ব্যবস্থায় ঢাকা-সিলেট ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক দেশের অর্থনীতি, বাণিজ্য, শিল্প, পর্যটন এবং মানুষের দৈনন্দিন জীবনযাত্রায় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক দেশের প্রধান সমুদ্রবন্দর চট্টগ্রামের সঙ্গে রাজধানীর সংযোগ স্থাপন করেছে। অন্যদিকে ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক উত্তর-পূর্বাঞ্চলের অর্থনীতি, পর্যটন, চা-শিল্প এবং সীমান্ত বাণিজ্যের অন্যতম প্রধান সড়কপথ। 

 

কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে এই দুই মহাসড়কসহ দেশের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় আঞ্চলিক মহাসড়ক নির্মাণ, সংস্কার মেরামত কাজের কারণে বেহাল অবস্থায় রয়েছে। কোথাও সড়কের একটি লেন বন্ধ, কোথাও পুরো অংশ খুঁড়ে রাখা হয়েছে, আবার কোথাও সেতু বা কালভার্ট নির্মাণের কাজ দীর্ঘদিন ধরে ঝুলে আছে। ফলে প্রতিদিন লাখো মানুষকে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে এবং দেশের সামগ্রিক যোগাযোগ ব্যবস্থায় সঙ্কট তৈরি হচ্ছে।


বিশেষজ্ঞদের মতে, বাংলাদেশে সড়ক মহাসড়কের দুরাবস্থা শুধু যাতায়াতের সমস্যা নয় এটি সরাসরি দেশের অর্থনীতি, ব্যবসা-বাণিজ্য, শিল্প উৎপাদন, কৃষি, রফতানি এবং মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয়ের ওপর প্রভাব ফেলে। একটি উন্নয়নশীল অর্থনীতিতে সড়ক নেটওয়ার্ক দুর্বল হলে তার প্রভাব প্রায় প্রতিটি খাতে পড়ে। পণ্য পরিবহনের ব্যয় বৃদ্ধি বাংলাদেশের প্রায় ৮৫-৯০ শতাংশ পণ্য সড়কপথে পরিবহন করা হয়।

 

ফলে সড়ক খারাপ হলে ট্রাক কাভার্ড ভ্যানের জ্বালানি খরচ বেড়ে যায়, যন্ত্রাংশ দ্রুত নষ্ট হয়, রক্ষণাবেক্ষণ ব্যয় বাড়ে। একই গন্তব্যে পৌঁছাতে বেশি সময় লাগে। পরিবহন ভাড়া বৃদ্ধি পায়। পাশাপাশি উৎপাদক থেকে ভোক্তা পর্যন্ত প্রতিটি স্তরে পণ্যের দাম বেড়ে যায়। মূল্যস্ফীতি বৃদ্ধি পরিবহন ব্যয় বাড়ার কারণে চাল, সবজি, মাছ, মাংসসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বাড়ে। নির্মাণ সামগ্রি (সিমেন্ট, রড, ইট) পরিবহন ব্যয় বেড়ে যায়।

 

শিল্পকারখানার কাঁচামালের খরচ বৃদ্ধি পায়। এতে করে সামগ্রিক মূল্যস্ফীতির ওপর চাপ তৈরি হয়। শিল্প উৎপাদনে ক্ষতি কারখানায় সময়মতো কাঁচামাল পৌঁছাতে দেরি হলে উৎপাদন ব্যাহত হয়। ডেলিভারি সময়মতো দেয়া কঠিন হয়ে পড়ে। বিদেশি ক্রেতাদের কাছে বিশ্বাসযোগ্যতা কমে। জরিমানার ঝুঁকি তৈরি হয়। বিশেষ করে, তৈরি পোশাক, ওষুধ, চামড়া খাদ্যশিল্প বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। বিশেষ করে, বর্ষাকালে বৃষ্টির পানি জমে বড় বড় গর্ত তৈরি হওয়ায় যান চলাচল আরো কঠিন হয়ে পড়ে।

 

নির্মাণাধীন অংশে পানি জমে কাদাময় পরিবেশ সৃষ্টি হয়। কোথাও কোথাও বড় গর্ত তৈরি হয়, যা যানবাহনের জন্য অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। ভারী বৃষ্টিপাতের কারণে নির্মাণ সামগ্রি ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং কাজও সাময়িকভাবে বন্ধ রাখতে হয়। জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে অতিবৃষ্টি আকস্মিক বন্যার প্রবণতা বৃদ্ধি পাওয়ায় প্রকল্প বাস্তবায়নে নতুন ধরনের সমস্যার সৃষ্টি হচ্ছে। অনেক প্রকল্পে জলবায়ু সহনশীল নকশা উন্নত পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থাকে যথেষ্ট গুরুত্ব দেয়া হয় না।

 

সাম্প্রতিক সময়ের বৃষ্টিপাত, দীর্ঘস্থায়ী পানিবদ্ধতা এবং অতিরিক্ত তাপমাত্রার কারণে সড়কের স্থায়িত্ব কমে যাচ্ছে। অনেক এলাকায় পর্যাপ্ত পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা না থাকায় নির্মাণাধীন সড়ক দ্রুত ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। ফলে নতুন করে মেরামতের প্রয়োজন দেখা দিচ্ছে এবং প্রকল্পের ব্যয়ও বৃদ্ধি পাচ্ছে। জলবায়ু পরিবর্তনের বাস্তবতা বিবেচনায় নিয়ে টেকসই সড়ক নির্মাণ প্রযুক্তি উন্নত ড্রেনেজ ব্যবস্থার ওপর গুরুত্ব দেয়ার দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।ঢাকা থেকে দেশের বিভিন্ন শিল্পাঞ্চল, সমুদ্রবন্দর, স্থলবন্দর, কৃষিপ্রধান অঞ্চল এবং 

 

পর্যটনকেন্দ্রের সঙ্গে সংযোগ স্থাপনকারী মহাসড়কগুলো দেশের উৎপাদন, বাণিজ্য রফতানি কার্যক্রমের প্রধান মাধ্যম। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন মহাসড়কে চলমান নির্মাণ, সংস্কার মেরামত কাজ, ভাঙাচোরা সড়ক, ধীরগতির প্রকল্প বাস্তবায়ন এবং অপরিকল্পিত ব্যবস্থাপনার কারণে সড়ক যোগাযোগ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। সড়ক যোগাযোগে দীর্ঘস্থায়ী সঙ্কট দেশের সামগ্রিক বিনিয়োগ পরিবেশকেও প্রভাবিত করতে পারে। অর্থনীতিবিদদের মতে, যোগাযোগ ব্যবস্থায় অনিশ্চয়তা থাকলে উৎপাদন ব্যয় বাড়ে এবং ব্যবসায়িক ঝুঁকিও বৃদ্ধি পায়। এতে নতুন বিনিয়োগ আকৃষ্ট করা কঠিন হয়ে পড়তে পারে।


দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের অন্যতম পূর্বশর্ত হলো উন্নত নিরবচ্ছিন্ন যোগাযোগ ব্যবস্থা। কিন্তু বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প একযোগে শুরু হলেও সেগুলোর মধ্যে কার্যকর সমন্বয়ের অভাব রয়েছে। একই মহাসড়কে একাধিক সংস্থা একসঙ্গে কাজ শুরু করায় যান চলাচল মারাত্মক ভাবে ব্যাহত হচ্ছে। কোথাও সড়ক প্রশস্তকরণ, কোথাও ড্রেনেজ ব্যবস্থা উন্নয়ন, কোথাও বিদ্যুৎ বা গ্যাস লাইন স্থানান্তরের কাজ চলমান থাকায় প্রকল্পের অগ্রগতি ধীর হয়ে পড়ছে। 

 

এর ফলে নির্ধারিত সময়ে কাজ শেষ না হওয়ায় সাধারণ মানুষের ভোগান্তি দিন দিন বাড়ছে। ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক দেশের সবচেয়ে ব্যস্ত মহাসড়ক হিসেবে পরিচিত। প্রতিদিন হাজার হাজার পণ্যবাহী ট্রাক, কনটেইনারবাহী যান, দূরপাল্লার বাস, ব্যক্তিগত গাড়ি এবং জরুরি সেবার যানবাহন এই সড়ক ব্যবহার করে। কিন্তু বিভিন্ন স্থানে সংস্কার কাজের কারণে সড়ক সঙ্কুচিত হয়ে পড়েছে। কোথাও কোথাও দীর্ঘ যানজট সৃষ্টি হচ্ছে, যা কয়েক কিলোমিটার পর্যন্ত বিস্তৃত হচ্ছে।

 

যানজটে আটকে থেকে যাত্রীদের ঘণ্টার পর ঘণ্টা সময় নষ্ট হচ্ছে। শিশু, নারী, বৃদ্ধ অসুস্থ যাত্রীরা সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন। অ্যাম্বুলেন্সেও রোগী নিয়ে দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছানো কঠিন হয়ে পড়ছে, যা অনেক ক্ষেত্রে জীবনহানির ঝুঁকি বাড়িয়ে দিচ্ছে। একইভাবে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের বিভিন্ন অংশে নির্মাণ কাজ দীর্ঘদিন ধরে চলায় যানবাহনের গতি অনেক কমে গেছে। কোথাও ভাঙাচোরা রাস্তা, কোথাও কাদামাটি, কোথাও অসমান পাথর নির্মাণ সামগ্রি ছড়িয়ে থাকার কারণে দুর্ঘটনার ঝুঁকি বেড়েছে। 


সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সড়ক সংস্কারে নানা রকমের সমস্যা থাকার কারণে শিল্পকারখানার কাঁচামাল সময়মতো গন্তব্যে পৌঁছাতে পারছে না। উৎপাদিত পণ্য বাজারে পাঠাতে অতিরিক্ত সময় লাগছে। পরিবহন ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় উৎপাদন খরচও বৃদ্ধি পাচ্ছে। কৃষিপণ্য, মাছ, দুধ, সবজি অন্যান্য দ্রুত নষ্ট হওয়া পণ্য সময়মতো বাজারে পৌঁছাতে না পারায় কৃষক ব্যবসায়ীরা আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন। একই সঙ্গে ভোক্তাদেরও বেশি দামে পণ্য কিনতে হচ্ছে।

 

রফতানিমুখী শিল্প বিশেষ করে তৈরি পোশাক খাতও এই পরিস্থিতির কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। বিদেশি ক্রেতারা নির্ধারিত সময়ে পণ্য সরবরাহ প্রত্যাশা করেন। কিন্তু মহাসড়কে দীর্ঘ যানজট যোগাযোগ ব্যবস্থার দুর্বলতার কারণে অনেক সময় নির্ধারিত সময়ে বন্দরে পণ্য পৌঁছানো সম্ভব হয় না। এতে জাহাজ মিস হওয়ার আশঙ্কা থাকে এবং অতিরিক্ত গুদাম ভাড়া, পরিবহন ব্যয় জরিমানার মতো সমস্যা দেখা দেয়।

 

ফলে দেশের রফতানি সক্ষমতা আন্তর্জাতিক বাজারে বিশ্বাস যোগ্যতা ক্ষুর্ণ হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়। চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দর, মোংলা বন্দর এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ স্থলবন্দরও পরোক্ষভাবে এই সমস্যার প্রভাব অনুভব করছে। পণ্যবাহী যানবাহন সময়মতো বন্দরে পৌঁছাতে না পারায় কনটেইনার জট সৃষ্টি হয়। আমদানি-রফতানি কার্যক্রমে বিলম্ব হয়। এতে ব্যবসায়ী, আমদানিকারক, রফতানিকারক এবং পরিবহন খাতের সংশ্লিষ্ট সবাই আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হন।


সিলেট, মৌলভীবাজার, শ্রীমঙ্গল, হবিগঞ্জ এবং চট্টগ্রাম কক্সবাজারগামী পর্যটকদের একটি বড় অংশ সড়কপথ ব্যবহার করেন। কিন্তু দীর্ঘ যানজট, ভাঙাচোরা রাস্তা এবং দীর্ঘ ভ্রমণ সময় অনেক পর্যটককে নিরুৎসাহিত করছে। ফলে হোটেল, রিসোর্ট, রেস্তোরাঁ, পরিবহন স্থানীয়ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন। অভ্যন্তরীণ পর্যটনের বিকাশেও এর নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে।

 

নির্মাণাধীন অংশে পর্যাপ্ত সতর্কতামূলক চিহ্ন, আলোকসজ্জা, নিরাপত্তা ব্যারিকেড এবং বিকল্প চলাচলের ব্যবস্থা না থাকায় দুর্ঘটনা ঘটছে। ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের মাধবদী এলাকার ব্যবসায়ী সুমন সরকার দৈনিক আমার প্রেরণাকে বলেন, ৫৬ কিলোমিটার এই অংশে মহাসড়কের ছয় লেনে উন্নীতকরণ কাজ চলমান রয়েছে। খানাখন্দ বিকল্প চলাচলের রাস্তা অপ্রশস্ত হওয়ায় ধীরগতিতে যানবাহন চলাচল করতে হচ্ছে। 

 

সড়কের বিভিন্ন এলাকায় বৃষ্টির কারণে পানি জমে রয়েছে, গর্ত সৃষ্টি হয়েছে। এখানকার শিল্প প্রতিষ্ঠানের উৎপাদিত পণ্য সরবরাহে মারাত্মক সমস্যা হচ্ছে। এতে ক্রেতারা নিরোৎসাহিত হয়ে যাচ্ছেন। আমাদের আর্থিকভাবে ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হতে হচ্ছে।বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) পুরকৌশল বিভাগের শিক্ষক প্রফেসর . হাদিউজ্জামান দৈনিক আমার প্রেরণাকে বলেন, রাষ্ট্রের উন্নয়নে আধুনিক, নিরাপদ এবং টেকসই সড়ক অবকাঠামো অপরিহার্য। 

 

কিন্তু মহাসড়ক সংস্কারের ধীরগতি, সমন্বয়হীনতা দুর্বল প্রকল্প ব্যবস্থাপনা অগ্রযাত্রাকে বাধাগ্রস্ত করে। পরিস্থিতিতে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা, আন্তঃপ্রাতিষ্ঠানিক সমন্বয়, প্রযুক্তিনির্ভর তদারকি, দক্ষ প্রকল্প ব্যবস্থাপনা, জলবায়ু সহনশীল অবকাঠামো নির্মাণ এবং কঠোর জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা জরুরি। চলমান প্রকল্পগুলোর কাজ দ্রুত শেষ করা না গেলে মানুষ ভোগান্তিতে পড়বে। দীর্ঘমেয়াদে দেশের সড়ক অবকাঠামো উন্নয়নে পরিকল্পিত বিনিয়োগ দক্ষ ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা ছাড়া 

 

এই সমস্যার স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়। উন্নয়ন কাজের নামে বছরের পর বছর ভোগান্তি চলছে। আইন প্রয়োগের দুর্বলতার কারণেই মহাসড়কে বিশৃঙ্খলা বাড়ছে। সঠিক পরিকল্পনা কার্যকর ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে দেশের মহাসড়কগুলোকে নিরাপদ, আধুনিক এবং অর্থনৈতিক উন্নয়নের উপযোগী যোগাযোগ নেটওয়ার্কে পরিণত করা সম্ভব। গতিশীল সড়ক নেটওয়ার্ক গড়ে তোলা হলে অর্থনীতি আরো শক্তিশালী হবে, রফতানি খাতের সক্ষমতা বৃদ্ধি পাবে। বন্দরগুলোর কার্যক্রম আরো কার্যকর হবে।


পানিবদ্ধতা সড়ক অবকাঠামোয় ব্যাপক ক্ষতি : টানা ভারী বর্ষণ সেই সাথে ঢল জোয়ারে সৃষ্ট পানিবদ্ধতায় চট্টগ্রামে সড়কের সর্বনাশ হয়ে গেছে। মহানগরীসহ জেলার সড়ক অবকাঠামোয় ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। বৃষ্টিপাত কমে আসায় রাস্তা থেকে পানি সরতে শুরু করেছে। তাতে স্পষ্ট হচ্ছে সড়কের ক্ষতি। নগরীর প্রধান প্রধান সড়কে ব্যাপক খানাখন্দ। কোন কোন সড়কের বুকে বড় বড় গর্ত ডোবার আকার নিয়েছে। বিশেষ করে, চট্টগ্রাম বন্দরমুখি সড়কের ক্ষয়-ক্ষতি ব্যাপক।

 

ভাঙাচোরা এসব সড়কের আমদানি-রফতানি পণ্যবাহী লরি, কার্ভাডভ্যানসহ ভারী যানবাহন চলতে গিয়ে খানাখন্দে আটকা পড়ছে, ভাঙা সড়কে যানজট হচ্ছে, ঘটছে ছোট বড় দুর্ঘটনা, তাতে জনদুর্ভোগ বাড়ছে। গ্রামের সড়কের অবস্থা আরো ভয়াবহ। দ্রুত এসব সড়ক সংস্কার করা না হলে যোগাযোগ ব্যবস্থা স্থবির হয়ে পড়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে। তবে কর্তৃপক্ষের তরফে বলা হচ্ছে বৃষ্টি থামলে আর পানি সরে যেতেই সড়কে জরুরি সংস্কার কাজ শুরু করা হবে। এখনো সড়কে ক্ষয়-ক্ষতি নিরূপণের কাজ চলছে। 


গত এক সপ্তাহের ভারী বর্ষণ সেই সাথে পাহাড়ি ঢল প্রবল জোয়ারে চট্টগ্রাম মহানগরীর এবং জেলার বেশ কয়েকটি উপজেলা প্লাবিত হয়। মহানগরীর কিছু এলাকা ছাড়া বেশিরভাগ এলাকায় পানিবদ্ধতা হয়। পতেঙ্গায় একটি সড়কের একাংশ পানির তোড়ে ধসে যায়। কয়েকটি সড়কে যানবাহন চলাচল বন্ধ থাকে। জেলার চট্টগ্রাম-হাটহাজারি, কেরানিহাট-বান্দরবানসড়কসহ বেশ কয়েকটি আঞ্চলিক সড়ক পানিতে তলিয়ে যায়। বেশ কয়েকটি সড়কে যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। 


নগরীর প্রধান প্রধান সড়কের পাশাপাশি অলিগলির সড়কও পানির নিচে চলে যায়। এসব সড়কে টানা চারদিনের বেশি সময় পানি জমে থাকে। গতকাল বিকালে নগরীর বিভিন্ন এলাকা পরিদর্শন শেষে সিটি মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন দাবি করেছেন নগরীর ৮০ ভাগ এলাকা থেকে পানি সরে গেছে। গতকাল সকাল থেকে ভারী বর্ষণ না হওয়ায় পানিবদ্ধতার উন্নতি হয়। 


পানিতে তলিয়ে থাকা সড়কে যানবাহন চলাচল করায় বেশির ভাগ সড়ক ভেঙেচুড়ে একাকার হয়ে গেছে। সড়কের পিচ, কংকর কোথাও ইট পর্যন্ত উঠে গেছে। সড়কজুড়ে ছোট-বড় গর্ত। যানবাহনের চাকায় এসব গর্ত আরো বড় হচ্ছে। চট্টগ্রাম বন্দরমুখি প্রায় সব সড়কে এখন বেহাল দশা। ডুবে থাকা সড়কে ভারী যানবাহন চলাচলের কারণে এসব সড়কে ক্ষয়ক্ষতি বেশি হয়েছে।


নগরীর পতেঙ্গা থেকে কাটগড়, ইপিজেড হয়ে চট্টগ্রাম বন্দর পর্যন্ত বিমান বন্দর সড়কে ভারী যানবাহনের সংখ্যা বেশি। বন্দর থেকে আমদানি-রফতানি পণ্যবাহী কনটেইনার নিয়ে এই সড়ক হয়ে বেসরকারি ডিপোতে আসা-যাওয়া করে ভারী যানবাহন। সড়কটি টানা দিন পানিতে তলিয়ে থাকায় ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে।সড়কের স্টিল, সিইপিজেড মোড় এবং ব্যারিস্টার সুলতান আহমেদ কলেজ আগ্রাবাদ অংশে এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের ্যাম্প নির্মাণ চলছে। 

 

খোঁড়াখুুঁড়ির কারণে সড়কের ওই অংশে বেহাল অবস্থা। সড়কের বেশ কয়েকটি অংশে এখনো পানি জমে আছে। একই দশা বন্দর নিমতলা থেকে সিটি গেইট পর্যন্ত পোর্ট কানেকটিং রোডের। সড়কটিতে হাঁটু সমান পানি উঠে। নয়াবাজার আর হালিশহর অংশে পানি হয় বুকসমান। আগ্রাবাদ এক্সেস রোডও ডুবে ছিল কয়েকদিন। পানি সরে যাওয়ার পর সড়কে বড় বড় গর্ত দেখা যাচ্ছে। নগরীর মুরাদপুর, বহদ্দারহাট, চকবাজার, কে খান রোড, বায়েজিদ সড়ক, সিটি গেইট, স্টেশন রোড, শেখ মুুজিব রোডসহ বড় বড় প্রায় সব সড়কে খানাখন্দ। 


এবার রেকর্ড বৃষ্টিপাতের কারণে চট্টগ্রাম নগরীর নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হয়েছে। তবে নগরীর বড় বড় খাল নালা সংস্কার হওয়ায় প্রবর্তক মোড়, চকবাজার, মুরাদপুর, বহদ্দারহাট এলাকায় অন্যবারের তুলনায় পানির উচ্চতা এবং স্থায়িত্ব কম ছিলো। এসব এলাকায়ও পানিবদ্ধতার কারণে সড়কের ক্ষতি হয়েছে। নগরীর জুবিলি রোড, বাটালি রোড, পাঠানটুলী রোড, আগ্রাবাদ এক্সেস রোডসহ কয়েকটি সড়কে চট্টগ্রাম ওয়াসার পয়ঃনিষ্কাশন প্রকল্পের পাইপ লাইন স্থাপনের কাজ চলছে। তাতে সড়কে খোঁড়াখুঁড়ি করা হচ্ছে। 

 

পানিতে তলিয়ে এসব সড়ক বেহাল। পানিবদ্ধতায় নগরীর পাকা সড়কের পাশাপাশি আধাপাকা সড়কেরও ক্ষতি হয়েছে। কোনো কোনো এলাকায় সড়ক পানির তোড়ে ভেসে গেছে। কোথাও আবার ইট কংকর উঠে গিয়ে পাকা সড়ক কাচা সড়কের রূপ নিয়েছে। সিটি কর্পোরেশনের কর্মকর্তারা দৈনিক আমার প্রেরণাকে জানান, পানিবদ্ধতায় নগরীর প্রায় প্রতিটি এলাকায় সড়কে ক্ষতি হয়েছে। তবে ক্ষয়ক্ষতির প্রকৃত চিত্র এখনো পাওয়া যায়নি। বৃষ্টি থামলে এবং পানি সরে গেলে এসব সড়কে জরুরি সংস্কার কাজ শুরু করা হবে। 

 

এর মধ্যে যেসব এলাকায় সড়কে বেশি গর্ত হয়েছে সেখানে ইট বালু দিয়ে গর্ত ভরাট করে সড়কে যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক রাখার চেষ্টা চলছে।জেলা প্রশাসনের হিসাবে হাটহাজারি, বাঁশখালী, সাতকানিয়, লোহাগাড়া, আনোয়ারাসহ ছয়টি উপজেলায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। এসব উপজেলায় সড়কে এখনো বন্যার পানির ঢল। পানি সরে গেলে ক্ষয়ক্ষতির প্রকৃত চিত্র দেখা যাবে। পানি সরে গেলে এবং বৃষ্টিপাত থামলে জরুরি সংস্কার কাজ করা হবে।



নিউজটি আপডেট করেছেন : Reporter

কমেন্ট বক্স
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ দৈনিক আমার প্রেরণা ডট কম
সকল কারিগরী সহযোগিতায় SoftioLab