উজানের পাহাড়ি ঢলে কুমিল্লার গোমতী নদীর পানি
বৃদ্ধি পাওয়ায় নদীর চরাঞ্চলে পানি প্রবেশ করেছে। এতে আগাম জাতের বিভিন্ন
সবজি ও কৃষি ফসল তলিয়ে গিয়ে সহস্রাধিক কৃষক ক্ষতির মুখে পড়েছেন।জানা যায়,
গত বৃহস্পতিবার বুড়িচং উপজেলার বালিখাড়া, ভান্তি ও কামারখাড়া এলাকায় গিয়ে
দেখা যায়, চরাঞ্চলের বিস্তীর্ণ সবজি খেত পানিতে তলিয়ে গেছে।
পানির
ওপর ভেসে রয়েছে বিভিন্ন ধরনের শাকসবজি। কৃষকরা কোমরসমান পানিতে নেমে যা
সম্ভব ফসল তুলে আনার চেষ্টা করছেন।ভান্তি এলাকার কৃষক আবদুল হক দৈনিক আমার প্রেরণাকে জানান, প্রায় ৩ লাখ টাকা
বিনিয়োগ করে তিনি আগাম জাতের মূলা ও লাউ চাষ করেছিলেন। হঠাৎ গোমতীর পানি
বেড়ে যাওয়ায় তার পুরো ক্ষেত পানির নিচে চলে গেছে।
আরেক কৃষক আবদুল জলিল দৈনিক আমার প্রেরণাকে বলেন, তার ডাঁটা শাক, পুঁইশাক ও
চালকুমড়ার ক্ষেত পানিতে ভেসে গেছে। তার মতো ভান্তি, কামারখাড়া, বালিখাড়া ও
আশপাশের এলাকার অন্তত শতাধিক কৃষকের ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে।কৃষক সোহেল মিয়া দৈনিক আমার প্রেরণাকে বলেন, লাউ, চিচিঙ্গা, ডাঁটা শাক,
চালকুমড়া, মূলাসহ বিভিন্ন সবজি অপরিপক্ব অবস্থায় তুলে নিতে তারা বাধ্য হচ্ছেন।
কৃষকদের ভাষ্য, পুরোপুরি নষ্ট হওয়ার আগে যতটুকু সম্ভব ফসল উদ্ধার করে
বিক্রি করে অন্তত কিছু ক্ষতি পুষিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছেন। তবে এতে লাখ লাখ
টাকার ফসলহানির আশঙ্কা রয়েছে।কুমিল্লা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মিজানুর
রহমান
দৈনিক আমার প্রেরণাকে জানান, উজানের পাহাড়ি ঢলে গোমতী নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায়
বিস্তীর্ণ
চরাঞ্চলের হাজারো কৃষকের ফসল পানিতে তলিয়ে গেছে। তিনি বলেন, কৃষি বিভাগের
কর্মকর্তাদের সাথে তিনি নিজেও মাঠে অবস্থান করে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের সঙ্গে
কথা বলছেন। ক্ষতির পরিমাণ জরিপ শেষে কৃষকদের সহায়তায় প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ
নেওয়া হবে।