রোজকার জীবনে হরেকরকম ব্যথার সম্মুখীন হই আমরা। পা মচকানো, পেশিতে টান, হঠাৎ আঘাত, পিরিয়ডের ব্যথা বা অস্ত্রোপচার পরবর্তী অস্বস্তি-ব্যথার সম্মুখীন হতে হয় কম-বেশি। ব্যথা হলেই চটজলদি মুক্তি পেতে পেইনকিলারে ভরসা রাখেন অনেকে। আবার অনেকে বাহ্যিকভাবে কষ্ট উপশম করতে সেঁক দিয়ে থাকেন।
প্রশ্ন হলো, কোন সেঁক দেবেন? গরম না ঠান্ডা? চিকিৎসকদের মতে, কোথায় চোট লেগেছে, কতটুকু আঘাত তা বুঝে সেঁকের ধরন নির্বাচন করতে হয়। ব্যথা কমানোর ক্ষেত্রে সঠিক থেরাপি নির্বাচন করা অত্যন্ত জরুরি। ভুল পদ্ধতি ব্যবহার করলে ব্যথা বা ফোলাভাব কমার বদলে উল্টো বহুগুণ বেড়ে যেতে পারে।

১. কোল্ড থেরাপি বা বরফ সেঁক
চলতে চলতে হঠাৎ কোথাও ধাক্কা খেতে পারেন। সঙ্গে সঙ্গে শরীরে কালসিটে দাগ পড়ে যেতে পারে। এমন ক্ষেত্রে কোল্ড থেরাপি দারুণ কাজ করে। আঘাত লাগার ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে বরফ সেঁক দিলে ব্যথার তীব্রতা অনেকটা কমে।
বরফ সেঁক কীভাবে কাজ করে: বরফ বা ঠান্ডা কম্প্রেস আঘাতপ্রাপ্ত জায়গার রক্তনালিগুলোকে সঙ্কুচিত (Constrict) করে। ফলে সেখানে রক্ত চলাচল সাময়িকভাবে বাধা পায়, যা ফোলা ভাব, অভ্যন্তরীণ রক্তক্ষরণ এবং যন্ত্রণা দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আনে।

কোন কোন ব্যথায় ঠান্ডা সেঁক কার্যকরী: পা মচকে যাওয়া, হঠাৎ কোথাও কেটে বা ছড়ে যাওয়া, কিংবা আচমকা আঘাতে দেহের কোনও অংশ ফুলে ওঠার মতো ব্যথায় ঠান্ডা সেঁক ভালো কাজ করে।
সতর্কতা: চিকিৎসকরা বলছেন, কোনোভাবেই বরফ সরাসরি ত্বকে ঘষা যাবে না। আইস প্যাক বা ব্যাগ না থাকলে পরিষ্কার সুতির কাপড়ে বা রুমালে বরফের টুকরো দিয়ে ভালো করে মুড়িয়ে নিন। এরপর ব্যবহার করুন।

২. হিট থেরাপি বা গরম সেঁক
পুরনো বাতের ব্যথা কিংবা ভারী কিছু তুলতে গিয়ে কোমরে টান লাগার ব্যথা নিরাময়ে গরম সেঁক দারুণ কার্যকরী।
কীভাবে কাজ করে: গরম সেঁক দিলে ওই নির্দিষ্ট অংশে রক্ত সঞ্চালন বৃদ্ধি পায়। এটি স্টিফ হয়ে যাওয়া পেশিগুলোকে শিথিল করে। রক্তপ্রবাহ সচল করতেও সাহায্য করে।

কোন কোন ব্যথায় গরম সেঁক কাজ করে: দীর্ঘদিনের পেশির ব্যথা, পেশিতে টান, জয়েন্ট বা অস্থিসন্ধির কষ্ট, পেট-কোমরে ঋতুস্রাবজনিত আড়ষ্টতা, ঘাড়-কাঁধের স্টিফনেস বা কোমরের পুরোনো ব্যথা।
সতর্কতা: চিকিৎসকদের পরামর্শ, হট ওয়াটার ব্যাগ ব্যবহার করার আগে দেখে নিতে হবে মুখ যেন ভালোভাবে বন্ধ থাকে। হিট প্যাডের তাপও যেন খুব বেশি না থাকে। সেক্ষেত্রে ত্বক পুড়ে যাওয়ার ভয় থাকে।