কুমিল্লা মহা-নগর কিংবা পৌর নগরী বিকাশের ইতিহাসের সাথে ওতপ্রোত ভাবে জড়িয়ে আছে ঐতিহাসিক শাসনগাছা বাস টার্মিনাল। এটি কেবল একটি বাস টার্মিনাল নয়, বরং একটি সময়ের
সাক্ষী, একটি শহরের যাত্রাপথের অংশ। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য, দীর্ঘদিনের
অব্যবস্থাপনা ও অপরিকল্পিত ব্যবহারের কারণে আজ এই গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাটি
তার পূর্ণ সম্ভাবনা থেকে বঞ্চিত।বর্তমানে শোনা যাচ্ছে, টার্মিনালটি অন্যত্র স্থানান্তরের চিন্তাভাবনা
চলছে। সাধারণ মানুষ ম,নে করে স্থানান্তর নয় আধুনিকায়ন করাই হলো সময়ের দাবী।
নতুন স্থানে স্থানান্তর মানেই নতুন করে ভূমি অধিগ্রহণ, কৃষিজমি নষ্ট
হওয়া, বিপুল পরিমাণ সরকারি অর্থ ব্যয় এবং নাগরিকদের জন্য অতিরিক্ত
ভোগান্তি।প্রশ্ন হলো, যেখানে একটি বিশাল আয়তনের বিদ্যমান টার্মিনাল রয়েছে,
সেটিকে আধুনিকায়ন না করে কেন নতুন করে আরেকটি টার্মিনাল নির্মাণ? বাস্তবতা হলো, সঠিক পরিকল্পনা ও আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহারের মাধ্যমে
শাসনগাছা বাস টার্মিনালকেই একটি বহুতল, সমন্বিত এবং আধুনিক পরিবহন হাবে
রূপান্তর করা সম্ভব। এখানে ১০০টির বেশি বাসের ধারণক্ষমতা সম্পন্ন বহুতল
পার্কিং ব্যবস্থা গড়ে তোলা যেতে পারে।
যাত্রীদের জন্য আধুনিক অপেক্ষমান
কক্ষ, খাদ্যকোর্ট, নিরাপদ স্যানিটেশন সুবিধা এবং স্মার্ট ট্রাফিক
ব্যবস্থাপনা চালু করা যেতে পারে।আরও গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, নিকটবর্তী কুমিল্লা রেলওয়ে স্টেশন এর সাথে এই
টার্মিনালকে সমন্বয় করে একটি মাল্টিমোডাল ট্রান্সপোর্ট হাব গড়ে তোলা সম্ভব।এতে করে সড়ক ও রেল যোগাযোগের মধ্যে একটি কার্যকর সংযোগ সৃষ্টি হবে, যা
যাত্রীদের যাতায়াতকে আরও সহজ ও গতিশীল করবে। উন্নত বিশ্বের শহরগুলোতে দেখা যায়, স্থানান্তর নয়, বরং বিদ্যমান অবকাঠামোর
সর্বোত্তম ব্যবহার ও আধুনিকায়নের মাধ্যমে টেকসই উন্নয়ন বা সমাধান তৈরি করা সম্ভব।
আমাদেরও সেই পথেই এগোতে হবে। কারণ উন্নয়ন মানে শুধু নতুন কিছু তৈরি করা নয়;
বরং যা আছে, তাকে আরও কার্যকর ও সময়োপযোগী করে তোলা।শাসনগাছা বাস টার্মিনালকে কেন্দ্র করে একটি সুপরিকল্পিত আধুনিকায়ন প্রকল্প
বাস্তবায়ন করলে একদিকে যেমন রাষ্ট্রের কোটি কোটি টাকা সাশ্রয় হবে, অন্যদিকে
শহরের যানজট কমবে, কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে এবং নগরবাসীর জীবনযাত্রার মান
উন্নত হবে।
অতএব, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি জোরালো আহ্বান, শাসনগাছা বাস টার্মিনাল স্থানান্তরের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করে এটিকে একটি বহুতল, আধুনিক এবং সমন্বিত পরিবহন হাবে রূপান্তরের উদ্যোগ গ্রহণ করুন। এটাই হবে সময়োপযোগী, অর্থনৈতিকভাবে যুক্তিযুক্ত এবং জনগণের কল্যাণে সর্বোত্তম সিদ্ধান্ত। লেখক: মোহাম্মদ শাহাব উদ্দিন, প্রকৌশলী ও নগর উন্নয়ন চিন্তাবিদ।