পুরানা পল্টন, ঢাকা | | বঙ্গাব্দ

কৃত্রিম পরাগায়নের মাধ্যমে কাঁঠালের ফলন বৃদ্ধির উপায়

author
Reporter

প্রকাশিত : Jun 27, 2026 ইং
ad728
কৃত্রিম পরাগায়নের মাধ্যমে কাঁঠালের ফলন বৃদ্ধির উপায়

পুরুষ পুষ্পমঞ্জরী দিয়ে স্ত্রী পুষ্পমঞ্জরীকে পরাগায়ন করা হচ্ছে। ছবি: লেখক

কাঁঠাল বাংলাদেশের জাতীয় ফল। দরিদ্র জনগোষ্ঠীর কাছে এটি অত্যন্ত উপাদেয় এবং খাদ্য ও পুষ্টি নিরাপত্তায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। সাধারণত ডিসেম্বর থেকে মার্চ মাস পর্যন্ত কাঁঠালের ফুল আসে। তবে অমৌসুমী ও বারোমাসি গাছে সেপ্টেম্বর মাস থেকে ফল আসতে দেখা যায়।কাঁঠাল গাছ মনোসিয়াস বা সহবাসী উদ্ভিদ বিধায় একই গাছে স্ত্রী ও পুরুষ পুষ্পমঞ্জরী আলাদাভাবে জন্মে।


বিপুল সংখ্যক ফুল একটি মঞ্জরীদণ্ডের উপর জন্মে থাকে। কাঁঠালের পুষ্পমঞ্জরী হলো একটি স্পাইক, যা দুটো নৌকার মতো স্পেদ বা খোলসের মধ্যে আবৃত থাকে। ধীরে ধীরে স্পেদ ভেদ করে পুষ্পমঞ্জরী বের হয়। সাধারণত গাছের ট্রাঙ্ক বা পুরাতন ডালের ফুটস্টকে স্ত্রী পুষ্পমঞ্জরী এবং শাখা-প্রশাখায় পুরুষ পুষ্পমঞ্জরী ধরে। ফুটস্টক হলো গাছের ট্রাঙ্ক বা ডাল থেকে উৎপন্ন বোটার মতো অংশ, যেখান থেকে কাঁঠাল ঝুলে থাকে।


কাঁঠালের ফুল ও ফল ধারণের মৌসুমে গাছে গাছে পুরুষ ও স্ত্রী পুষ্পমঞ্জরী ঝুলে আছে। স্ত্রী পুষ্পমঞ্জরী পুরুষের তুলনায় দৈর্ঘ্য-প্রস্থে বড় হয়। এর গায়ে ফুলের স্টিগমা হালকা হলুদ বিন্দুর মতো দেখা যায়, যা দুই-তিন হাজার পর্যন্ত হতে পারে। স্টিগমার সজিবতা বা পরাগরেণু গ্রহণযোগ্যতা এক থেকে দুই সপ্তাহ পর্যন্ত থাকে। যত বেশি স্ত্রীফুল পরাগায়িত হবে, কাঁঠালের কোষ তত বেশি হবে এবং আকারও বড় হবে।


স্ত্রী পুষ্পমঞ্জরীর বোটা মোটা এবং বোটার গোড়ায় রিং-এর মতো দাগ থাকে। পুরুষ পুষ্পমঞ্জরী তুলনামূলক ছোট, এর বোটা চিকন এবং উপরিভাগ মসৃণ। এ্যানথার বিদারণের সময় হালকা হলুদ পাউডারের মতো দানা তৈরি হয়, যা থেকে পরাগরেণু বের হয়। একটি পুষ্পমঞ্জরীতে এক কোটিরও বেশি পরাগরেণু উৎপন্ন হয় এবং সাধারণত ৩–৪ দিন সজীব থাকে।


কাঁঠাল ফুল বায়ু পরাগী, পোকামাকড় দ্বারা পরাগায়ন হয় না। তাই কৃত্রিম পরাগায়নের মাধ্যমে পরাগায়ন নিশ্চিত করলে ফলন ভালো হয়। সঠিক সময়ে ভিন্ন গাছের সজীব পরাগরেণু দ্বারা পরাগায়ন করলে কাঁঠালের আকার বড় হয় এবং অপুষ্টিজনিত এবরোথ্যাবরো ভাব কমে যায়।


আম ও লিচুর মতো ফলের ফুল ধারণের আগে খরার প্রয়োজন হলেও কাঁঠালের ক্ষেত্রে তা নয়। বরং সেচ প্রয়োজন। স্টিগমার গ্রহণযোগ্যতা, পরাগরেণুর সজীবতা এবং ফল ঝরা বন্ধ করতে নভেম্বর থেকে ১০–১৫ দিন অন্তর সেচ দিলে ফুল ধারণ বৃদ্ধি পায় এবং ফল ঝরা কমে।কাঁঠালের স্ত্রী পুষ্পমঞ্জরী বিপুল সংখ্যক স্বতন্ত্র স্ত্রী ফুল নিয়ে গঠিত হওয়ায় এটি যৌগিক (মাল্টিপল) ফল। কাঁঠাল গাছ পরপরাগী হওয়ায় বীজ থেকে প্রাপ্ত গাছের মাতৃগুণাগুণ ঠিক থাকে না।


কৃত্রিম পরাগায়নের মাধ্যমে কাঁঠালের আকার বড় ও সমান করা যায়। এজন্য অন্য গাছের উপযুক্ত পুরুষ পুষ্পমঞ্জরী থেকে পরাগরেণু সংগ্রহ করতে হবে। যখন এ্যানথার হালকা হলুদাভ রং ধারণ করে এবং হাতে ঘষলে সহজে পরাগরেণু বের হয়, তখন তা তুলির সাহায্যে স্ত্রী পুষ্পমঞ্জরীর গায়ে লাগাতে হবে। এছাড়া সম্পূর্ণ পুরুষ পুষ্পমঞ্জরী বোটা ধরে স্ত্রী পুষ্পমঞ্জরীর গায়ে ঘষলেও পরাগায়ন সম্পন্ন হয়।


স্ত্রী পুষ্পমঞ্জরীর গায়ে স্টিগমা বের হওয়ার প্রথম সপ্তাহ থেকে দ্বিতীয় সপ্তাহের মধ্যে দু-এক দিন পর পর মোট তিনবার কৃত্রিম পরাগায়ন করলে সবচেয়ে ভালো ফল পাওয়া যায়। সকাল ৮টা থেকে ১০টা সময় কৃত্রিম পরাগায়নের জন্য উত্তম। যদি পুষ্পমঞ্জরীর অপুষ্টতা বা এবরোথ্যাবরো দেখা দেয়, তবে ০.২% বোরন গাছের পাতা ও শাখা-প্রশাখায় স্প্রে করতে হবে।লেখক: উদ্যানতত্ত্ববিদ ও প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা, আঞ্চলিক কৃষি গবেষণা কেন্দ্র, বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট, জামালপুর


নিউজটি আপডেট করেছেন : Reporter

কমেন্ট বক্স
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ দৈনিক আমার প্রেরণা ডট কম
সকল কারিগরী সহযোগিতায় SoftioLab