
সামর্থ্যবান মুসলমানদের জন্য জীবনে একবার হলেও হজ করা ফরজ। আগামী বছর হজ পালন করতে ইচ্ছুকদের জন্য ১ জুলাই থেকে প্রাক-নিবন্ধন কার্যক্রম শুরু হয়েছে। ২৬ সেপ্টেম্বরের মধ্যে নিবন্ধন সম্পন্ন করতে হবে। আগ্রহী হজযাত্রীদের নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই প্রাক-নিবন্ধন সম্পন্ন করার আহ্বান জানিয়েছে ধর্ম মন্ত্রণালয়।
পবিত্র হজযাত্রার প্রথম ধাপ হলো প্রাক-নিবন্ধন। এ সময় জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) অথবা বাংলাদেশি পাসপোর্ট কিংবা জন্মসনদ, পাসপোর্ট সাইজের ছবি, মোবাইল নম্বর এবং ব্যাংক হিসাব নম্বর প্রদান করতে হবে। একই পরিবারের একাধিক ব্যক্তি চাইলে একটি ব্যাংক হিসাব ব্যবহার করতে পারবেন।
ধর্ম মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, হজের আর্থিক লেনদেন নিরাপদ ও সুশৃঙ্খল রাখতে সরকারি ও বেসরকারিÑ উভয় মাধ্যমে হজে যেতে ইচ্ছুকদের জন্য ব্যাংক হিসাব থাকা বাধ্যতামূলক। এ ছাড়া যারা আগে প্রাক-নিবন্ধনের সময় ব্যাংক হিসাবের তথ্য দেননি, তাদের নিবন্ধনের সময় অবশ্যই সেই তথ্য জমা দিতে হবে বলেও নির্দেশনায় উল্লেখ করা হয়েছে।
এর আগে গত ২৯ মে সৌদি আরবের জেদ্দায় আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে ২০২৭ সালের হজের আনুষ্ঠানিক সময়সূচি প্রকাশ করা হয়। অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের ধর্মমন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জাল হোসাইন (কায়কোবাদ) আমন্ত্রিত অতিথি ছিলেন। সৌদি হজ ও ওমরা মন্ত্রণালয়ের সহকারী মন্ত্রী ড. আল হাসান বিন ইয়াহইয়া আল মানাখরা তার হাতে হজের সময়সূচি আনুষ্ঠানিকভাবে তুলে দেন।

প্রকাশিত সূচি অনুযায়ী, আগামী ৮ নভেম্বর বাংলাদেশ ও সৌদি আরবের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় হজ চুক্তি স্বাক্ষর হবে। এরপর ২০২৭ সালের ২৮ জানুয়ারি থেকে হজের ভিসা দেওয়া শুরু হবে। আগামী ৮ এপ্রিল থেকে হজ ফ্লাইট শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। আর চাঁদ দেখা সাপেক্ষে ২০২৭ সালের ১৫ মে পবিত্র হজ অনুষ্ঠিত হবে। ইসলামের বিধানাবলির মধ্যে কিছু বিধান শারীরিক, কিছু আর্থিক আর কিছু শারীরিক ও আর্থিক উভয়টির সমন্বয়ে।
নামাজ ও রোজা শারীরিক ইবাদত, জাকাত আর্থিক ইবাদত আর হজ শারীরিক ও আর্থিকের সমন্বিত ইবাদত। ইসলামের এই বিধান পালনের জন্য বান্দাকে যেমন অর্থ খরচ করতে হয়, তেমনি শারীরিক অনেক পরিশ্রমের প্রয়োজন হয়। এ জন্য দরকার প্রস্তুতি। আপনি যদি হজে যাওয়ার ইচ্ছা করে থাকেন, তাহলে প্রথমেই নিয়ত পরিশুদ্ধ করুন। কেননা নিয়তের ওপরই সব আমল নির্ভরশীল। এরপর শারীরিক প্রস্তুতি নিন।
হজের মূল দিনগুলোতে প্রচুর পরিমাণ হাঁটাচলা করতে হয়। তাওয়াফের সময় অধিক মানুষ হওয়ায় দীর্ঘ সময় নিয়ে তাওয়াফ শেষ করতে হয়। মিনা, আরাফাতের ময়দান ও মুজদালিফায় অবস্থানের জন্যও লম্বা পথ হাঁটতে হয়। যদিও যাতায়াতের জন্য যানবাহনের ব্যবস্থা আছে, কিন্তু অত্যধিক মানুষের ভিড়ে ওসব বাহনে চলার সুযোগ না-ও পেতে পারেন। ফলে অনেকটা পথ হাজিদের হেঁটে হেঁটেই পার হতে হয়। এ ছাড়া যাত্রাপথে নানা ধরনের বিড়ম্বনার সম্মুখীন হন হাজিরা।
সৌদি আরবে থাকা-খাওয়া নিয়েও কখনও কখনও ঝামেলা বাধতে পারে। তাই আপনি যদি আগে থেকেই মানসিক প্রস্তুতি নিয়ে রাখেন যে, হজের সফরে যাচ্ছি, সেখানে আমার একটু-আধটু কষ্ট হতেই পারে। আল্লাহর জন্য এতটুকু কষ্টে কিছুই হবে না ইনশাআল্লাহ। মানসিকভাবে এমন প্রস্তুতি থাকলে, আপনার জন্য অনেকটাই সহজ মনে হবে হজের সফর। এ ছাড়া শারীরিকভাবে যারা অসুস্থ, চিকিৎসা নিয়ে নিজেকে প্রস্তুত করে তুলুন।
প্রস্তুতির অংশ হিসেবে হজের সফরে কোথায়, কখন কী আমল করতে হবে, কোন আমল করা ফরজ, কোন আমল ওয়াজিব, কোন আমল সুন্নত ইত্যাদি সম্পর্কে সুস্পষ্ট ধারণা নিন। একই সঙ্গে হজের তালবিয়াসহ গুরুত্বপূর্ণ দোয়াগুলো মুখস্থ করে নিন। যদিও হজের সফরে এজেন্সির পক্ষ থেকে হজ গাইড থাকার কথা। কিন্তু আপনি যদি নিজেরটা নিজেই করতে পারেন, তাহলে আরেকজনের অপেক্ষায় বসে থাকবেন কেন !
প্রয়োজনে আপনার আশপাশে কোথায় হজ প্রশিক্ষণ চলছে সেখানে যোগাযোগ করে হজের প্রশিক্ষণ নিন। কিংবা আপনার পরিচিত আলেম অথবা ইতিপূর্বে হজ করেছেন এমন কারও কাছ থেকেও এসব জানতে পারেন। সম্ভব হলে হজসংক্রান্ত বই পড়েও জানতে পারেন। এক কথায় হজ পালনের ইচ্ছা করলে সব ধরনের প্রস্তুতি নিন। তবেই আপনার হজ হবে সুন্দর ও নির্ভুল।